Showing posts with label সমস্যা ও সম্ভাবনা. Show all posts
Showing posts with label সমস্যা ও সম্ভাবনা. Show all posts

18 August 2017

 ১০ কারণে কুমিল্লা নগরে জলাবদ্ধতা

১০ কারণে কুমিল্লা নগরে জলাবদ্ধতা


কুমিল্লা নগরে ১০টি কারণে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে শহরের সড়ক ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। গত কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে নাকাল হয়ে পড়েছে শহরের বেশির ভাগ মানুষ। পানি নামার সব পথ রুদ্ধ হওয়ায় এককালের সাজানো-গোছানো-পরিপাটি কুমিল্লা শহর এখন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। আবাসিক শহরের এমন বিপর্যয় ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলছেন নগরবিদেরা।
কুমিল্লা শহরের আদি বাসিন্দা ও নগর ভবনের প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নগরের পানি নামার অন্তত ১০টি পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে কুমিল্লা নগরের টমছমব্রিজ মসজিদের নিচে কান্দিখালের প্রস্থ কমে যাওয়া ও খালের মধ্যে পিলার থাকা, বিসিক শিল্পনগরী লাগোয়া রেললাইনের পানি নামার পথ বন্ধ, বদরপুর রেলওয়ের অপ্রশস্ত কালভার্ট, দক্ষিণচর্থা ইপিজেড এলাকার নাসা স্পিনিং মিলের কারণে পানিপ্রবাহের পথ রুদ্ধ হওয়া, চাঁনপুর পুরাতন গোমতী নদীর স্তর ওপরে থাকা, কান্দিরপাড় সিটি হার্ট বিপণিবিতান এলাকার খালের প্রস্থ কমে যাওয়া, রেইসকোর্স রেলসেতুর সামনে খাল ভরাট, কাঠেরপুল খালের মধ্যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি, কান্দিরপাড় সিটি মার্কেট লাগোয়া নালার মধ্যে পিলার ও অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ।
গত বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পানি নামার রুদ্ধ জায়গাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রেললাইনের কালভার্টের পানি নামার জায়গা ভরাট রয়েছে। সেখানে প্লট করা হয়েছে। দক্ষিণচর্থার যে পথ দিয়ে পানি নামত, সেখানে কুমিল্লা ইপিজেডের নাসা কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। কান্দিরপাড়ের টাউন হল লাগোয়া সিটি মার্কেট তৈরির সময় নালার মধ্যে পিলার বসানো আছে। এতে করে পানিপ্রবাহ এক প্রকার বন্ধই রয়েছে। একই অবস্থা কান্দিরপাড় সিটি হার্ট বিপণিবিতানের খালের। আগে ওই খাল ছয় ফুট প্রস্থ ছিল, এখন সেটি সাড়ে তিন ফুটে নেমে এসেছে। কাঠেরপুল খালের মধ্যে যত্রতত্র পিলার বসিয়ে ব্যক্তিগত কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
কুমিল্লার ইতিহাসবিদ গোলাম ফারুক বলেন, ‘১৯২১ সালে কুমিল্লা টাউন সার্ভে (জরিপ) হয়েছিল। তখন শহরের কোথায় 
কী হবে, তা উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু সে জরিপের তোয়াক্কা না করে বাসাবাড়ি বানানো হচ্ছে। কুমিল্লা শহরের পানি নামার অন্তত ১০টি পথ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা ক্রমেই দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। আমাদের ছেলেবেলায় কুমিল্লা শহর অত্যন্ত সুন্দর ছিল। এখন সেই রূপ আর নেই। শহরকে সুন্দর রাখার জন্য কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করতে হবে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের কারণে বাসাবাড়ির পানি নামতে পারছে না। যে যার মতো করে ইমারত নির্মাণ করছে। কেউ বিধিমালা মানছে না।
কুমিল্লার প্রকৌশলী আবুল বাশার বলেন, কুমিল্লা নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ১৯৯৬ সালে বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীদের নিয়ে একটি সভা হয়েছিল। ওই সভায় নানা ধরনের কর্মকৌশল ঠিক করা হয়। এরপর সেটি আর এগোয়নি।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নুরুল্লাহ বলেন, পানি নামার সব উৎসমুখ ভরাট করা হয়েছে। নগরবাসী সচেতন না হলে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। এগুলোর দৈন্যের কারণে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ কুমিল্লাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শহর হিসেবে তৈরি করতে মহাপরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো

16 July 2017

কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা

কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা


কয়েক মাস ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন এই সড়কে চলাচল করা হাজারো গাড়ির যাত্রীরা। ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে সময় নষ্ট, যানজট আর গাড়ি বিকল হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকরা। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ৭২ কিলোমিটারের অধিকাংশই ভাঙা।
যাত্রী ও পরিবহন চালকরা জানান, কুমিল্লা পদুয়ার বাজারের পর থেকে ভাঙা শুরু। সেখানে কিছু ইট ফেলায় তা বিষফোঁড়ার মতো ফুলে উঠেছে। সেখানে গাড়ি চলছে হেলেদুলে। ধীর গতিতে গাড়ি চলায় সেখানে প্রায় যানজট লাগছে। বেশি ভয়াবহ অবস্থা বাগমারা বাজার ও লাকসাম জংশনের উত্তর দিকে। সেখানে গর্তে গাড়ির চাকা আটকে যাচ্ছে। ভাঙার কারণে বাগমারা বাজারে প্রতিনিয়ত যানজট লাগছে। এছাড়া লালমাই, হরিশ্চর, লাকসাম বাইপাস,খিলা, নাথেরপেটুয়া, বিপুলাসার, সোনাইমুড়ি, বেগমগঞ্জ থানা এলাকাসহ মাইজদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙা রয়েছে।  
লাকসামের পোলাইয়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন বাসযাত্রী জানান, ২-৩ মাস ধরে এ সড়কে স্বাভাবিক ভাবে যাতায়াত করা যায় না। বাস চলাচলের পর শরীরের গিটে গিটে ব্যথা হয়। মনে হয় চিকুনগুনিয়ার ব্যথা।
উপকূল বাস সার্ভিসের চালক মামুনুর রশিদ জানান, সড়ক ভাঙা হওয়ায় ঘন ঘন গাড়ি বিকল হচ্ছে। ভাঙা অংশ এলে যাত্রীরা ঝাঁকুনির ভয়ে বাস থেকে নেমে যেতে চান। দ্রুত সড়কটি মেরামত করা না হলে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কুমিল্লা জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি অধ্যক্ষ কবির আহমেদ বলেন, কয়েক মাস ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। আমাদের গাড়ি গুলো গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে। যানজট লাগছে, যাত্রীরা কষ্ট পাচ্ছেন। সড়কটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।
সড়ক ও জনপদ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন, আমরা কিছু অংশে ইট দিয়ে সংস্কার করেছি। এসড়কে ৫-৬মাসের মধ্যে ফোরলেনের কাজ শুরুর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে আমরা পদক্ষেপ নেবো।

23 June 2017

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লার ঈদবাজারে ঐতিহ্যবাহী খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। এ ছাড়া দৃষ্টিনন্দন, আরামদায়ক এবং কম দাম হওয়ায় খাদি কাপড়ের থ্রি-পিস কিনছেন মহিলারা। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা খাদি কাপড় কিনছেন ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে। সাদা এবং রঙিন পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ৬শ থেকে ১২শ টাকা। থ্রি-পিসের দাম ৫শ থেকে ১০০০ টাকা। শার্ট ৪শ থেকে ৫শ টাকা। ফতুয়া ৪শ থেকে ৬শ টাকা। এছাড়া রয়েছে বিছানার চাদর, গায়ের চাদর, ছোটদের প্যান্ট-শার্টসহ বিভিন্ন পোশাক। কুমিল্লা মহানগরীর মনোহরপুর ও লাকসাম রোডে খাদিপণ্য বিক্রির পুরান দোকানগুলোর পাশাপাশি অনেক নতুন দোকান গড়ে উঠেছে। খাদি ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, খাদির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতবর্ষের স্বাধিকার আন্দোলন ও বাঙালি ঐতিহ্য। এ কাপড় খাদে (গর্তে) বসে তৈরি করা হয় বলে এর নাম দেওয়া হয় ‘খাদি’। শতবর্ষের ঐতিহ্যের খাদি আলোচনায় আসে ১৯২১ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময়। তখন  মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে ভারতবর্ষে অসহযোগ আন্দোলনের সময় কুমিল্লায় খাদি শিল্প প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সেই সময় বিদেশি পণ্য বর্জন করার ডাক আসে। সর্বত্র এক আওয়াজ ‘মোটা কাপড়-মোটা ভাত’। সেই মোটা কাপড় এখন মিহি হয়েছে। কাপড়ে লেগেছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। কুমিল্লার খাদি এখন শৈল্পিকতার ছোঁয়ায় দেশ-বিদেশে সমাদৃত হয়ে আসছে। খাদির কাপড় যাচ্ছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। এ সুনাম অর্জিত হয়েছে বহু বছর ধরে অনেক কারিগর আর ব্যবসায়ীর অক্লান্ত পরিশ্রমে। খাদি কাপড়ের সঙ্গে এখন কয়েকটি দিক জড়িত রয়েছে। তা হচ্ছে তাঁতি, সুতা কাটুনী, ব্লক কাটার ও রঙের কারিগর। সবাই মিলে তৈরি করেন নান্দনিক খাদি কাপড়। বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় দেড় হাজার পরিবার এই পেশায় জড়িত। মহানগরে খাদি কাপড়ের দোকান রয়েছে শতাধিক। খাদি শিল্পের প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন কুমিল্লা মহানগরের খাদি ঘরের তরুণী মোহন রাহা, খাদি কুটির শিল্পের শংকর সাহা, খাদি ভবনের দীনেশ দাশ, বিশুদ্ধ খদ্দরের মনমোহন দত্ত ও রাম নারায়ণ স্টোরের কৃষ্ণ সাহা।  
আমেরিকা প্রবাসী আকিলা রাব্বী জানান, তিনি প্রায় প্রতি বছর দেশে আসেন। দেশে এলে খাদির শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিস কেনেন। তিনি আমেরিকায় স্বজনদের জন্য কুমিল্লার ঐতিহ্যের খাদি কাপড় নিয়ে যান। কুমিল্লা মহানগরীর খাদি কাপড়ের প্রবীণ ব্যবসায়ী খাদিঘরের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার রাহা বলেন, কুমিল্লা খাদি শিল্পের একটা শক্ত ভিত আছে। বর্তমানে খাদি শিল্পে অনেক নতুন নতুন ডিজাইন এসেছে, কারণ ১৯২১ সালের প্রেক্ষাপট ও আজকের চাহিদা এক নয়। শতবর্ষের খাদিপণ্য তার গুণগত মান বজায় রেখে আধুনিকতার সংমিশ্রণে প্রতিযোগিতার বাজারে চাহিদা ধরে রেখেছে। পৃথিবীর যেখানে বাঙালি আছে সেখানে খাদি কাপড়ের প্রসার ঘটেছে। বাংলাদেশের বিদেশি দূতাবাসে খাদিসহ দেশি পণ্যের প্রদর্শনী করলে তা এ পণ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটাবে।
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

08 June 2017

ক্রেতাশূন্য কুমিল্লার ঈদ বাজার জমবে দু’তিন দিন পর

ক্রেতাশূন্য কুমিল্লার ঈদ বাজার জমবে দু’তিন দিন পর


রোজার প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো জমে ওঠেনি কুমিল্লার শপিংমলগুলো। এমনকি স্বাভাবিকের তুলনায়ও কম বিক্রি হওয়ায় হতাশ বিক্রেতারা। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে খন্দকার হক টাওয়ার, সাত্তার খান কমপ্লেক্স, ইষ্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা, ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ার, সমবায় মার্কেট, নিউ মার্কেট, মনোহরপুরসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটগুলোতে কাটা কাপড় ও দেশি-বিদেশি প্রচুর পরিমাণ রেডিমেইড পোশাক সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা। কিন্তু এখনও ক্রেতার অপেক্ষায় দিন গুণছেন ব্যবসায়ীরা। 

গত বছরের তুলনায় এবছর এখনও ঈদের বাজার জমে না উঠায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা টেনশনে রয়েছেন। তবে অনেকে ধারণা করছেন দু’একদিন পরই কুমিল্লায় ঈদের বাজার জমে উঠবে। বর্তমানে যে সকল ক্রেতা আসছেন তারা এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেট ছুটে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনও কেনাকাটা করছেন না। অপেক্ষায় রয়েছেন নতুন কি চমক আসে। অন্যদিকে থান কাপড় দোকানগুলো জমে উঠেছে। কুমিল্লার বিভিন্ন শপিংমলে ভারতীয় থ্রি-পিস, শাড়ি, শার্ট, প্যান্ট ও দেশীয় বিভিন্ন পোশাক ওঠেছে। বিভিন্ন শপিংমলে ১শ’ ভাগের মধ্যে ৭০ ভাগ থ্রি-পিসই ভারতীয় পোশাক। যার মধ্যে রয়েছে- বাহুবলি, সারারা, লং ড্রেস, অরপিন্ডে, ইসকে দিওয়ানা, মাস্তানি, ফ্লোর টাইসসহ আরো অনেক। 
সাত্তার খান কমপ্লেক্সের অর্কিড প্লাস ফ্যাশনের সত্বাধিকারী মো: রাজু জানান, এখনও ঈদের বাজার জমে উঠেনি। তবে আশা করছি দু’একদিনের মধ্যে জমে উঠবে। বৃষ্টির কারণে দূরের ক্রেতারা এখনো আসেনি। গত ঈদের তুলনায় এখনও ভালো বিক্রি হয়নি। 
খন্দকার হক টাওয়ারের মোহনা অভিজাত বস্ত্র বিতানের সত্বাধিকারী মো: হারুনুর রশিদ জানান, থান কাপড় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও  তাদের পছন্দের কাটা কাপড় কেনার জন্য আসতে শুরু করেছেন। তবে গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি একটু কম। বেশি নেটের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। লেহেঙ্গা ও রাউন্ড থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে। 
সাত্তার খান কমপ্লেক্সের ফেয়ার লেডির সত্বাধিকারী মো: কামরুল ইসলাম লিটন জানান, নতুন থ্রি-পিসের মধ্যে নতুন নতুন কিছু কালেকশন এসেছে। তবে তা এখনো আমরা দোকানে শো-করিনি। ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখে তা আমরা শো করবো। আশা করি দু’একদিনের মধ্যে ঈদের বাজার জমে উঠবে।

সূত্রঃ কুমিল্লার কাগজ

04 June 2017

কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে দালালের আখড়া

কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে দালালের আখড়া


চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ শরীফ ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে এসেছিলেন কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে। দালালদের খপ্পরে পড়ে তিন দিনেও কাজটি করতে পারেননি। অথচ কাজটি একদিনের। শরীফ বলেন, এখানে তো টাকা না দিলে ভেতরেই ঢুকতে দেয় না।
জানা গেছে, কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কর্মকতা-কর্মচারীদের যোগসাজশেই এভাবে দালালদের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বিদেশে গমনেচ্ছুরা। আর প্রতিবাদ করলে মারধরসহ লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে।
এদিকে দালালদের দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করলেও নিজেদের সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের দায়ী করেছেন কুমিল্লার কর্মসংস্থান, জনশক্তি ও প্রশিক্ষণ কার্যালয়ের জেলা ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক ড্রাফট দেওয়া থেকে শুরু করে ফরম জমা দেওয়া পর্যন্ত দালালদের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছে লোকজন। আর বিদেশে গমনেচ্ছুদের ভিড়কে পুঁজি করে কর্মসংস্থান অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে সক্রিয় দালালরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, বাইরের ফরম গ্রহণযোগ্য না হওয়ার পরও জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের প্রবেশ গেইটে জোরপূর্বক ফরম পূরণের জন্য আদায় করা হচ্ছে টাকা। হারাতে হচ্ছে হাতের মোবাইল এবং সঙ্গে থাকা কাগজপত্র।
প্রসঙ্গত, বিদেশে যেতে ইচ্ছুকরা রেজিস্ট্রেশনের জন্য চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লহ্মীপুরসহ ১৭টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন এখানে আসে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রায়হান নামে এক যুবকসহ ২০-২৫ জন জনশক্তি কার্যালয়ে এসে রেজিস্ট্রেশনের জন্য লম্বা লাইনে থাকা লোকজনের কাছ থেকে টোকেন ছিনিয়ে নিচ্ছে। এরপর তাদের মনোনীত কিছু লোককে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।আর সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কোনো সহযোগীতা করতে রাজি না হলে রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ সময় বাধা দিলে এক কর্মকর্তাকে মারধরের হুমকিও দেয় তারা।
কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এএসআই কবির আহম্মেদ বলেন, প্রতিদিন কিছু স্থানীয় উচ্ছৃঙ্খল তরুণ এবং দালাল চক্র বিদেশ গমনেচ্ছুকদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। লাইনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এমন অভিযোগ শুনেছি। রায়হানসহ ২০-২৫ জন তরুণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টা করে। আমরা তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নাম বলে হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ কার্যালয়ের জেলা ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে আসা লোকজন দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ছে। প্রতারণার শিকার লোকজন আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। আমরা প্রতিরোধ করতে চাইলে তারা হুমকি দেয়। রায়হান নামের ওই যুবক আমাদের এক কর্মকর্তাকে মারধরেরও হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় থানায় অভিযোগ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারপরও তাদের দৌরাত্ম্য থামছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাইরের কোনও ফরম গ্রহণ করি না। তারপরও অফিস গেইটে দাঁড়িয়ে থাকা দালালদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ছে লোকজন। তবে অফিস সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা ঠিক নয় বলেও জানান তিনি।

25 May 2017

কুমিল্লায় ফেনসিডিল কারখানার সন্ধান

কুমিল্লায় ফেনসিডিল কারখানার সন্ধান


কুমিল্লার ভারত সীমান্তের একটি গ্রামে ফেনসিডিলসহ মাদক তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ওই কারখানা থেকে দুই হাজারেরও বেশি  ফেনসিডিলের বোতল ও সরঞ্জামাদিসহ বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তবর্তী গলিয়ারা গ্রামের রতন মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এ কারখানার সন্ধান পায় পুলিশ।
 

উক্ত ঘটনায় কারখানা মালিক রতনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন। জানা যায়, বুধবার সকালের দিকে নগরীর গর্জনখোলা এলাকায় একটি সিএনজিতে তল্লাশি চালিয়ে একশ' বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এসময় সিএনজি চালকসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
 
পুলিশ জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আটককৃত রতন মিয়া গ্রামের বাড়িতে ফেনসিডিলসহ মাদক তৈরির কারখানা রয়েছে বলে জানায়। তাদের দেয়া তথ্যমতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রতন মিয়ার গলিয়ারা গ্রামের বাড়িতে বুধবার দুপুরের দিকে অভিযান চালায়।
 

সীমান্তবর্তী এলাকার ওই বাড়িটিতে গোয়াল ঘরের আড়ালে গড়ে তোলা হয় ফেনসিডিলসহ মাদক তৈরির বিশাল কারখানা। পুলিশ ওই কারখানা থেকে দুই হাজারেরও বেশি বোতল ফেনসিডিল, কয়েক হাজার খালি বোতল, বোতলের কর্ক, তরল ফেনসিডিল ভর্তি ড্রাম, ফেনসিডিল তৈরির নানান সরঞ্জাম এবং প্রায় একশ' কেজি গাঁজা উদ্ধার করে।
 
পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন জানান, সীমান্তের নির্জন এলাকার এই বাড়িতে গরু পালনের নামে গোয়াল ঘর তৈরি করে ওই ঘরে ফেনসিডিলের কারখানা গড়ে তোলা হয়। ওই কারখানায় প্রস্তুতকৃত ফেনসিডিল দেশের বিভিন্নস্থানে পাচার করা হতো।
 
সূত্রঃ ইত্তেফাক

23 May 2017

রাস্তা বন্ধের ভোগান্তিতে কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন চার গ্রামের মানুষ

রাস্তা বন্ধের ভোগান্তিতে কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন চার গ্রামের মানুষ



কুমিল্লা কোটবাড়ি থেকে ময়নামতি চেকপোষ্ট পর্যন্ত সড়কটি প্রায় অর্ধশত বছর ধরে সেনানিবাসের পূর্বদিকের সাহেবনগর, গুনানন্দি, রাজেন্দ্রপুর, দক্ষিণ নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ব্যবহার করে আসছিলেন। এসব গ্রামে বেসামরিক লোকজন ছাড়াও সেনাবাহিনীতে চাকরি শেষে অবসরে এসে একখন্ড ভূমি কিনে বাড়ি করছেন এমন পরিবারের সংখ্যাও দুই শতাধিক রয়েছে। ওইসব গ্রামের লোকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সেনানিবাস এলাকার পূর্বদিকে বাংলাবাজার থেকে ময়নামতির নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত ২৪টি গেইট ছিল। কিন্তু পর্যায়ক্রমে ২১টি গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বর্তমানে খোলা থাকা তিনটি গেইট দিয়ে কিছু মানুষ চলাচলের সুযোগ পেলেও অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ ২১টি গেইট বন্ধ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ ভোগান্তি লাঘবে চলাচলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন ও কুমিল্লা সেনানিবাসের জিওসির সহানুভুতি কামনা করে গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন গ্রামবাসী। সংবাদ সম্মেলন শেষে একই দাবীতে তারা কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। 
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে গ্রামের ভুক্তভোগী লোকজন জানান, চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ায় ওইসব গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিসহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কেউ অসুস্থ হলে দ্রæত হাসপাতালে নিতে পারছেন না। বন্ধ গেইটের রাস্তার ওপর অ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে দেয়ালের উপর দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় রোগী গাড়ীতে তুলতে হয়। ওইসব গ্রামের ছেলেমেয়েরা সেনানিবাস এলাকায় ইস্পাহানী স্কুল এন্ড কলেজ, ক্যান্টবোর্ড স্কুল এন্ড কলেজ, ক্যান্ট বয়েজ এন্ড গালর্স স্কুল, ময়নামতি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, প্রয়াস প্রতিবন্ধী স্কুলে অধ্যয়ন করে। পর্যায়ক্রমে গেইটগুলো বন্ধ হওয়ায় দুই আড়াই কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুল কলেজে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। বাড়ির সরু অলি-গলি,ড্রেন, নর্দমা পেরিয়ে স্কুল, কলেজ, অফিস, হাট বাজারে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে গ্রামের লোকদের। কেবল তাই নয়, এসব গ্রামের কেউ মারা গেলে খাটিয়ায় বহন করে কবরস্থান নেয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। সন্তান ভূমিষ্ঠের সময় ঘনিয়ে এসেছে এমন প্রসূতি মহিলারা চিকিৎসা সুবিধার জন্য শহরে বা শহরের বাইরে স্বজনের বাড়িতে ঠাঁই নিয়ে থাকেন। সবমিলে সুষ্ঠু চলাচলের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়ায় ভোগান্তিই এখন চার গ্রামের মানুষের নিত্যসঙ্গি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে সুষ্ঠু চলাচল ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে গ্রামবাসীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, গুনানন্দী গ্রামের সাবেক মেম্বার ছেতু মিয়া, কাজী আবদুল মতিন, রাজেন্দ্রপুরের সফিকুল ইসলাম ভূইয়া, সাহেবনগরের ক্যাপ্টেন অব. নজরুল, হুমায়ুন কবীর, মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। 
সূত্রঃ ইনকিলাব

18 May 2017

কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম হবে : নাফিসা কামাল

কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম হবে : নাফিসা কামাল


অচিরেই কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ- বিপিএলের দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কর্ণধার নাফিসা কামাল। বুধবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে তিনি এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।
নাফিসা কামাল বলেন, কুমিল্লার খেলোয়াড়দের নিয়ে যাতে বিপিএলের দল গঠন করা যায় সেজন্য খুব শীঘ্রই কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। কুমিল্লার তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড়দের যাচাই-বাছাই করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরী করাই হচ্ছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মূল লক্ষ্য। ভালো মানের ক্রিকেটার তৈরীর জন্য যা যা প্রয়োজন ভিক্টোরিয়ান্সের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে।
এর আগে প্রথমবারের মতো গত ফেব্রুয়ারিতে কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের কথা জানায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন হবে স্টেডিয়ামটি, যা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের নিজস্ব ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
কুমিল্লাই একমাত্র জেলা, যা বিভাগ না হয়েও স্বতন্ত্র দল হিসেবে দেশের সবচেয়ে জমজমাট ক্রিকেট আসর বিপিএলে অংশ নিয়েছে। কিছুদিন আগে এসেছে বৃহত্তর এই এলাকাটিকে বিভাগ করার ঘোষণা, এতে অন্যান্য ক্ষেত্রের মত খেলাধুলার বিষয়টিও বেশ গুরুত্বের সাথে উত্থাপিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মিত হলে এই অঞ্চল ক্রিকেটীয় দিক থেকে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রঃ বিডিক্রিকটাইম

16 May 2017

কুমিল্লা যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য !

কুমিল্লা যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য !


কুমিল্লা জেলা দিন দিন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে। বৃহত্তর এ জেলায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বেশ কয়েকবার আলোচনা করা হলেও অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, পারিবারিক কলহ ও রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে কুমিল্লা জেলায় ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে ৭টি খুন ও ৪৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ১০টি, অপহরণ ১টি, ২টি দস্যুতাসহ মোট ৫৭০টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
এছাড়াও ৩ বিদেশী পিস্তল, ৮টি কার্তুজ, ৫টি ম্যাগজিনসহ ১৬টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ ২০১৭ইং সালের চেয়ে এপ্রিলে অপরাধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়ে অধিক হারে। মার্চ মাসে মোট ৫৫৩টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ১০টি ধর্ষণ, খুন ১৩টিসহ ৩৮টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল বলে গতকাল কুমিল্লা জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কক্ষে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাংগীর আলম এ তথ্য তুলে ধরে।
এছাড়াও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা তথ্য অনুযায়ী জানা যায়- কুমিল্লা জেলায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ১৭ উপজেলায় ৭টি খুন ও ৪৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ১০টি ধর্ষণ, দস্যুতা ২টি, অপহরণ ১টিসহ মোট ৫৭০টি অপরাধ সংঘটিত হয়। এর মধ্যে কোতয়ালী থানায় দস্যুতা ১টি, ১টি খুন, অপরহরণ ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৭টি, সির্দেল চোর ২টি, অন্যান্য চুরি ১টি, বিস্ফোরক ১টি, পুলিশ আক্রান্ত ১টি, দ্রুত বিচার ২টি, মাদকদ্রব্যসহ ৮৬টি, অন্যান্য ৩১টিসহ মোট ১৩৪টি অপরাধ সংঘটিত হয়।
এছাড়াও জেলার সদর দক্ষিণ থানা ১টি খুন, ৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন, পুলিশ আক্রান্ত ১টি, পশু চুরি ১টি, অন্যান্য চুরি ১টি, অস্ত্র আইন ১টি, দ্রুত বিচার ১টি, মাদকদ্রব্য ২৫টি, অন্যান্য ১৩ টিসহ মোট ৭৫টি অপরাধ সংঘটিত হয়। চৌদ্দগ্রামে খুন ১টি, ৫টি নারী ও শিশু নির্যাতন, অন্যান্য ১টি, অস্ত্র আইন ১টি, মাদকদ্রব্য ৩১টি, অন্যান্য ১৭টিসহ সহ মোট ৫৬টি অপরাধ, নাঙ্গলকোটে ৩টি নারী ও শিশু নির্যাতন, পশু চুরি ১টি, মাদকদ্রব্য ৫টি. অন্যান্য ৩টিসহ মোট ১২টি অপরাধ, লাকসামে ১টি নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ১৬টি ও অন্যান্য ৮টিসহ মোট ২৫টি অপরাধ।
মনোহরগঞ্জে খুন ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ২টি, মাদক ২টিসহ মোট ১০টি অপরাধ, বুড়িচং ডাকাতি ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ২টি, সিদেল চুরি ৩টি, পশু চুরি ২টি, অন্যান্য চুরি ১টি, চোরাচালান ১টি, মাদক ১২টিসহ মোট ৩২টি অপরাধ, ব্রাহ্মণপাড়া ১টি নারী ও শিশু নির্যাতন, সিদেল চুরি ১টি, অন্যান্য চুরি ১টি, মাদক ১৯টিসহ মোট ২৬টি অপরাধ, বরুড়া দস্যুতা ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৮টি, সিদেল চুরি ১টি, পশু চুরি ১টি, অন্যান্য চুরি ১টি, মাদক ৮টিসহ মোট ৩০টি অপরাধ, চান্দিনায় ৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ২১টিসহ মোট ৪০টি অপরাধ, দাউদকান্দিতে ২টি খুন, ৫টি নারী ও শিশু নির্যাতন, চোরাচালান ২টি, মাদক ৪২টিসহ মোট ৫৮টি অপরাধ, তিতাসে খুন ১টি, মাদক ৫টিসহ মোট ১০টি অপরাধ, মেঘনায় মাদক ৪টিসহ মোট ৬টি অপরাধ।
হোমনায় নারী ও শিশু নির্যাতন ১টি, সিদেল চুরি ১টি, মাদক ২টিসহ মোট ৮টি অপরাধ, মুরাদনগর খুন ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১টি, মাদক ১৭টিসহ মোট ২৮টি অপরাধ, দেবিদ্বারে নারী ও শিশু নির্যাতন ৭টি, সিদেল চুরি ১টি, পশু চুরি ১টি, মাদক ৮টি, অন্যান্য চুরি ৫টিসহ মোট ১৬টি অপরাধ। বাঙ্গরা পশু চুরি ১টি, অন্যান্য চুরি ১টি, চোরাচালান ১টি, মাদক ৮টিসহ মোট ১৬টি অপরাধ।
এছাড়াও জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার ভূমি, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে ১৫৭টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ২৬৭টি মামলা, ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯’শ টাকা জরিমানা আদায়, ২৫৩ জনের অর্থদণ্ড ও ৭৫ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিপনন রোধে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক ১৬টি অভিযানে ৩৯টি মামলা, ১ লাখ ৬২ হাজার ১’শ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ৩৭ জনকে অর্থ দণ্ড করা হয়। মাদক চোরাচালান ও বিপনন রোধে ভ্রাম্যমান আদালত ৮১টি অভিযানে ১৩৩টি মামলা, ২ লাখ ১১ হাজার ২’শ টাকা জরিমানা, ১৩৩ জনকে অর্থ দণ্ড, ৪৮ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ইভটিজিং রোধে ভ্রাম্যমান আদালত ৬টি অভিযানে ৬টি মামলা দিয়ে ৭ জনকে কারাদন্ডসহ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে গত এক মাসে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা র‌্যাব-১১ অক্টোবর মাসে ৬টি অভিযানে ২ লাখ ৫১ হাজার ৪’শ টাকার মালামাল উদ্ধার ও ২ জনকে আটক করে ২টি মামলা দায়ের করেছেন। বিজিবি ১ হাজার ৮৭২টি অভিযানে ১২ কোটি ২১ লাখ ৯৬ হাজার ১৮০ টাকা উদ্ধার করেছে এবং ৯ জনকে আটক করেছে, মামলা দিয়েছেন ৮টি, পুলিশ ৬ হাজার ৩’শ৯২টি অভিযানে ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫০ টাকা ও ৩৩৮ জনকে আটক করে ২৭৫টি মামলা দায়ের করেছে এবং মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর ১৭৫টি অভিযানে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮০টাকা উদ্ধার করেছে এবং ২৯ জনকে আটক করে ২৯টি মামলা দায়ের করেন। বনবিভাগে ৩০টি অভিযানে ৮টি দায়ের করেছেন।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন বলেন- কুমিল্লা গত মাসে জঙ্গী বিরোধী কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কোটবাড়ীতে জঙ্গী বিরোধী অভিযানে কাউকে পাওয়া যায়নি, তবে অভিযানে ১০ কেজি বিস্ফোরক, ১টি সুইসাইডাল বেল্ট, হেন্ড গ্রেনেড ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন- জেলা পুলিশ মাদক, জঙ্গি বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাংগীর আলম বলেন-কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধর্মের আলোকে বাণী সম্বলিত ফলক মহানগর এলাকায় পুনঃ স্থাপনসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের এ বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন- কুমিল্লা জেলা উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদকদ্রব্য প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।
সূত্রঃ বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ

02 May 2017

দখল হয়ে যাচ্ছে কুমিল্লার পুরাতন গোমতী নদী

দখল হয়ে যাচ্ছে কুমিল্লার পুরাতন গোমতী নদী

কুমিল্লার পুরাতন গোমতী নদী

কুমিল্লার পুরাতন গোমতী নদীর অধিকাংশ প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। দখল হওয়া নদীর এ বিশাল এলাকাজুড়ে সরকারি জমিতে নির্মিত হয়েছে দোকানপাট ও বহুতল ভবন। নদীর বাকি অংশে সুয়ারেজ লাইন এবং আবর্জনা ফেলায় তা মরা খালে পরিণত হচ্ছে। নদীটি দখলমুক্ত করে এখানে বিনোদন পার্ক করা যেতে পারে। এতে বাড়বে নগরীর সৌন্দর্য। সূত্র মতে, বর্তমানে প্রভাবশালী দখলদারদের ৭৭২ জনের তালিকা করা হয়েছে। তবে গত এক যুগ ধরে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করার জন্য প্রশাসন থেকে পদক্ষেপ নিলেও রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন কারণে আজও তা কার্যকর হয়নি। হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী ২৫৮.৭৪ একর স্থানে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে এমন খবর জেনে দখলদাররা অভিযান ঠেকাতে তদবির অব্যাহত রেখেছে।

গোমতী নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিবিরবাজার সীমান্ত দিয়ে কুমিল্লা জেলায় প্রবেশ করে। শহর রক্ষার জন্য এ নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হলে শহরের উত্তর প্রান্তে কাপ্তানবাজার থেকে শুভপুর পর্যন্ত দীর্ঘ নদীটি পুরাতন গোমতী নদী নামে পরিচিতি লাভ করে। এরপর থেকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণ করে বাড়িঘর ও দোকানপাট। কেউ কেউ প্রশাসনের যোগসাজশে বহুতল ভবনও নির্মাণ করেছে।
সূত্র জানায়, শুভপুর, চাঁনপুর, সুজানগর, গাংচর, টিক্কারচর, গয়ামবাগিচা, মোগলটুলী (শাহসুজা মসজিদ রোড), পুরাতন চৌধুরীপাড়া, কাপ্তানবাজার, ভাটপাড়া, বিষ্ণপুর ও বজ্রপুর এলাকার মধ্যে পুরাতন গোমতীর দুই পাড়ের প্রায় ২শ’ একর সরকারি জমি অবৈধ দখলদারদের কবলে রয়েছে। এর মধ্যে ৫২২ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা করা হয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে এসব অবৈধ দখলদারকে ৮-৯ বার উচ্ছেদ নোটিস দেওয়া হয়। দখলদারদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা থাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রমে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি জেলা প্রশাসন। আদর্শ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম হোসেন গত বছরের ১৮ জানুয়ারি অবৈধ দখলীয় খাস জমি ও জলাভূমির তথ্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে পাঠান। ওই তথ্যে অবৈধ দখলীয় কৃষি জমির পরিমাণ ১৫৬.৭৪ একর, অবৈধ দখলীয় অকৃষি খাস জমির পরিমাণ ১০২ একর উল্লেখ করে ওই জমি অবৈধ দখলদারমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উত্তর প্রান্তে শুভপুর এবং দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে চকবাজার হয়ে টিক্কারচর শ্মশানঘাট পর্যন্ত গোমতী নদীর পূর্ব প্রান্তে টিক্কারচর সুইপার কলোনির পর থেকে শ্মশান ঘাট পর্যন্ত বিশাল অংশজুড়ে নদীর পাড় দখলের সঙ্গে নদীর অংশও দখলে নিয়ে অবৈধভাবে শতাধিক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কুমিল্লার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নদীটি দখলমুক্ত করে এখানে বিনোদন পার্ক করা যেতে পারে। নদীটি রক্ষায় আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। জেলা প্রশাসক ও সিটি মেয়রকে স্মারকলিপি দিয়েছি। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর , পুরাতন গোমতী দখলমুক্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) প্রধান করে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। এ ছাড়া সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে সিটি মেয়র সাহেবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

25 April 2017

কুমিল্লায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা

কুমিল্লায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা


চলতি বছর চৈত্রমাস থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তবে বৈশাখ মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে ভারী বর্ষণ শুরু হয় কুমিল্লা জুড়ে। ভারী বর্ষণ ও দমকা বাতাসে পরিপক্ক হতে থাকা ১লাখ ৬০ হাজার ৩১ হেক্টর জমির বোরো ধান হুমকির মুখে পড়েছে। এত করে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ প্রসারিত হচ্ছে।
এ বছর চৈত্রমাসের মাঝামাঝি আগাম কাল বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি আর দমকা বাতাস শুরু হয়েছে। গত পনের দিনে দু’একদিন পর মাঝারি বৃষ্টি আর দমকা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে কুমিল্লায়। গত তিন দিন ধরে দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া দমকা বাতাস আর মাঝারি বৃষ্টি। দমকা বাতাসে মাঠে নুযে পড়ছে ধান গাছগুলো। তলিয়ে যাচ্ছে ক্ষেতে জমে থাকা পানিতে।
এভাবে আরো কিছু দিন বৃষ্টি অব্যহত থাকলে জেলার লক্ষাধিক হেক্টর জমির বোরো ধানের মাঠে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জেলার ৬০ হাজার কৃষক।
এদিকে সবচেয়ে বেশী হুমকির সম্মুখীন জেলার নিন্মাঞ্চলের ধানী জমি। অল্প বৃষ্টিতেই যেখানে পানি জমে যায় আর সে এলাকাগুলোতে গত ৩ দিন ধরে ধারবাহিকভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
সরেজমিনে জেলার নিন্মাঞ্চল দাউদকান্দি, মেঘনা তিতাস, সদর দক্ষিণ, সদর ও বুড়িচং, ব্রাক্ষ্মনপাড়া উপজেলায় ঘুরে ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি আর দমকা বাতাসে ধানের শীষগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে জমির সব  ধান পরিপক্ক নাও হতে পারে। এছাড়াও যেগুলো কিছুটা পরিপক্ক হয়েছে সেগুলোও বাতাসে নুয়ে পরে পানির সাথে মিশে যাচ্ছে। মিশে যাওয়া ধানগুলো অপরিপক্কতার কারনে নষ্ট হয়ে যাবে দ্রুত। যার কারনে  কৃষকরা তাদের কাক্সিক্ষত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন না বলে এ প্রতিবেদককে জানায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।
এদিকে জেলার নিন্মাঞ্চল হোমনা মেঘনা ও দাউদকান্দিসহ আশেপাশের এলাকায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ, ভাঙ্গি ও মিষ্টি কুমড়ার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নষ্ট হচ্ছে গোমতী চরে বাজারজাত করার অপেক্ষায় থাকা মিষ্টি কুমড়ো, চিচিঙ্গা, ঢেড়স, চাল কুমড়া, বেগুন, মিষ্টি আলুসহ অন্যান্য সবজিগুলো।
শনিবারসহ পুরো বৈশাখমাসের এ অল্প কয়দিনে যে পরিমাণ বৃষ্টি ও দমকা বাতাস কুমিল্লার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে, তাতে ফসলের মাঠে সবুজ সবজি ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
জেলার সদর ও বুড়িচং উপজেলার গোমতীচরের অন্তত ১০ জন কৃষক শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভারি বৃষ্টির কারনে এ বছর কৃষি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাবে। কারণ মাঠে জমে থাকা পানি থেকে ধান কাটা ও সংগ্রহ অনেক কষ্টের আর এ কারনে কৃষি মজুরি বেড়ে যাবে।
এদিকে ভারী বর্ষণ  গোমতী চরের সবজি ক্ষেতে  তেমন সমস্যা না হলেও দমকা বাতাসে সবজি ক্ষেতের মাচা ভেঙ্গে যায়। গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়ে গোমতী চরের শাওয়ালপুর, টিক্কারচর, রত্নাবতী, বানাশুয়া, কামাড়খাড়া, ভান্তি এলাকায় বরবটি, টমাটো, চালকুমড়োর মাচা নষ্ট হচ্ছে। বহু স্থানে শতাধিক একর জমিতে আবাদ করা বরবটি, চাল কুমড়ো, শশা, ঝিঙ্গে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা জানান, বৃষ্টির সাথে দমকা বাতাস ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলের যে ক্ষতি হয় তা কাটিয়ে উঠা এসব প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এদিকে সদর দক্ষিণ ও চান্দিনা উপজেলার কৃষক আবদুল মজিদ, সোবহান, আয়েত আলী, জুলফিকাসহ আরো অন্তত কুড়িজন কৃষক জানান, বিগত বছর গুলোতে কদাচিৎ এক আধটু ঝড়-বৃষ্টি হলেও এ বছরের মত এমন ধারাবাহিক ঝড়-বৃষ্টি আর দমকা বাতাস প্রবাহিত হয় নি। এখনো আষাঢ়-শ্রাবন মাস আসে নি,তার আগেই এমন জড়-বৃষ্টি ভাবিয়ে তুলছে কৃষক সম্প্রদায়কে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আসাদুল্লাহ জানান, বোরো ধানের মাঠে তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর শুনে নি। তবে ঝড়-বৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

24 April 2017

দুর্ভোগের অপর নাম কুমিল্লার শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস

দুর্ভোগের অপর নাম কুমিল্লার শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস


কুমিল্লায় যানজট নিরসনে শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা গত বছরের জুন মাসে। কিন্তু ধীরগতির কারণে এখনও কাজ শেষ হয়নি। আর এ নির্মাণ কাজের জন্য শুষ্ক মৌসুমেই এ সড়কে চলাচল  করতে কষ্ট হয়, আর বর্ষাকালে চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকরা। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কুমিল্লাবাসীর।
জানা গেছে,  ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৬৩১ মিটার দীর্ঘ শাসনগাছা রেলক্রসিং ফ্লাইওভার। নির্মাণ এলাকায় সড়কে বড়  বড়  গর্তের সৃষ্টি হয়ে সারাবছরই পানি জমে থাকে। ফরে বিভিন্ন সময় দুর্র্ঘটনায় পরছে বিভিন্ন যানবাহন।
কুমিল্লা থেকে রাজধানী ঢাকা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া এবং  জেলার চান্দিনা, দেবীদ্বার, মুরাদনগর, হোমনা, তিতাস, মেঘনা, দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন উপজেলা যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড। দীর্ঘদিন ধরে শহর থেকে বের হওয়ার পশ্চিম দিকের এই সড়কটিতে যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে রেসকোর্স থেকে শাসনগাছা পর্যন্ত রেলওয়ে ওভারপাস কাজ শুরু হয় প্রায় দুবছর আগে। তবে নির্মাণ কাজ সঠিক সময়ে শেষ না হওয়ায় ও সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রাখায় সড়কটি এখন পরিণত হয়েছে নাগরিক সমস্যায়।


চান্দিনায় বসবাসরত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী ফাহমিদা (২০) জানান, ‘প্রতিদিন চান্দিনা থেকে শাসনগাছা আসতে সময় লাগে আধা ঘণ্টা। কিন্তু শাসনগাছার এই রেলওয়ে ওবারপাসটি পার হতে লেগে যায় আরও আধা ঘণ্টা। এখানে যানযটের কারণে প্রায়দিনই  সময় মতো কলেজে যেতে পারি না।’
মোটরসাইকেল আরোহী রাজিব (৩২) নামের এক ব্যক্তি জানান, ‘ব্যাবসার প্রয়োজনে আমাকে প্রায়ই এ এলাকায় আসতে হয়। তবে রাস্তায় বড় বড় গর্ত ও কাদাপানির কারণে প্রায়  দূর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়।’
কুমিল্লায় কর্মরত স্কুল শিক্ষক খালেদা পারভীন জানান, ‘প্রায় দুই বছর ধরে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এখন বাসা বদলানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় দেখছি না।’


কুমিল্লা নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি জহিরুল হক দুলাল জানান, ‘ওভারপাসটির নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হওয়ায় কুমিল্লাবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। তাই দ্রুত এ নির্মাণ কাজ শেষ করা উচিত।’
কুমিল্লা জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সাইফ উদ্দিন জনগণের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘জনবহুল এলাকা হওয়ায় কাজ করতে একটু সময় লাগছে। চলাচলে অসুবিধা হওয়ায়  আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে আগামী জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।’

সুত্রঃ বাংলাট্রিবিউন

23 April 2017

অসহনীয় যানজটে বিপর্যস্ত কুমিল্লা নগরবাসীর জীবন

অসহনীয় যানজটে বিপর্যস্ত কুমিল্লা নগরবাসীর জীবন


কুমিল্লা নগরের তিন প্রান্তে দুটি বাস টার্মিনাল ও একটি বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। এগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। ফলে শাসনগাছা, আশ্রাফপুর ও চকবাজার দিয়ে নগরের ভেতরে প্রবেশ করতে যাত্রীদের বেশ বেগ পেতে হয়।
তার ওপর নগরের ভেতরে অনুমোদনহীন অন্তত ১০ হাজার ইজিবাইক ও ১৫ হাজার রিকশা চলাচল করে। সরু সড়ক দিয়ে এসব বাহনকে গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এর বাইরে সড়কের মধ্যে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান নিয়ে বসা ও সড়কের মধ্যে মাইক্রোবাস রেখে যানজট সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নাকাল হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
সম্প্রতি সরেজমিনে এলাকাবাসী ও পরিবহনশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের শাসনগাছা বাস টার্মিনাল এলাকায় যত্রতত্র বাস দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যানজট দেখা দিচ্ছে। এর পূর্ব দিকে দুই বছর ধরে পদচারী-সেতু নির্মিত হচ্ছে। এ কারণেও যানজট হচ্ছে। নির্মাণাধীন পদচারী-সেতু থেকে আরও দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে চকবাজার এলাকা। সেখানে রিকশা, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চাপ বেশি থাকায় যানজট দেখা দিচ্ছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ আশ্রাফপুর বাস টার্মিনাল এবং এর লাগোয়া টমছম ব্রিজ এলাকায় প্রতিদিন বাস, ট্রাক, টেম্পো, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের জট লেগেই থাকে। এ কারণে দক্ষিণ কুমিল্লার ছয়টি উপজেলার বাসিন্দাদের শহরে ঢুকতেই বেগ পেতে হয়।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম বলেন, নগরের গণপূর্ত বিভাগের সামনের সড়কের দুই পাশে মাইক্রোবাস ফেলে রাখা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সামনে, ফৌজদারি মোড়, লিবার্টি মোড় ও কান্দিরপাড়ের রামঘাট এলাকায় যত্রতত্র যানবাহন রাখার কারণে যানজট বাড়ছে। একই অবস্থা বাদুরতলা এলাকার ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুল ও নগরের নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের সামনে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স ইন্সপেক্টর আতিকুর রহমান বলেন, নগরে ২০০৭-০৮ সালে ব্যাটারিচালিত ৩০০ অটোরিকশার (ইজিবাইক) লাইসেন্স দেওয়া হয়। পরে সেগুলো আর নবায়ন করা হয়নি। এরপর অবৈধভাবে এখনো ইজিবাইক নামানো হচ্ছে। প্রতিটি ইজিবাইক গড়ে পাঁচ হাত জায়গা দখল করে। এ কারণে মূল নগরের ১৮টি ওয়ার্ডের ১৪৭ কিলোমিটার রাস্তার যত দূর চোখ যাবে, কেবলই চোখে পড়বে ইজিবাইক আর ইজিবাইক। ইজিবাইকের দাপটে অস্থির কুমিল্লাবাসী। তিন চাকার ওই যানের কারণে নগরে যানজট লেগেই থাকে।
জানা গেছে, নগরের কান্দিরপাড়, পুলিশ লাইনস, শাসনগাছা, টমছম ব্রিজ, চকবাজার, রাজগঞ্জ, সালাউদ্দিন হোটেল এলাকা, আদালতপাড়া, মোগলটুলি, কাপ্তান বাজার ও ধর্মপুর এলাকায় রিকশা, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের ভিড় লেগেই আছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ‘সীমিত জনবল দিয়ে আমরা যানজট নিরসনের চেষ্টা করছি। কেবল মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন নয়, সড়কের প্রকৌশলগত ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার কারণে নগরে যানজট বাড়ছে। যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য সিটি করপোরেশনকে সবার আগে উদ্যোগ নিতে হবে।’
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারে যানজট নিরসনের কথা উল্লেখ করেছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় সাংসদ মহোদয়, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

17 April 2017

কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে ছড়াছড়ি মাতৃ ভাণ্ডারের : প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা

কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে ছড়াছড়ি মাতৃ ভাণ্ডারের : প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা


কুমিল্লার অনন্য মিষ্টি রসমালাই। আর এর সবটুকু জুড়ে রয়েছে মাতৃভাণ্ডার। নগরীর মনোহরপুর এলাকায় ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রাম থেকে এসে এক হিন্দু ব্যবসায়ী এখানে রসমালাইয়ের ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটির নাম দেওয়া হয় মাতৃভাণ্ডার। কালের পরিক্রমায় তা এখন সুনাম ছড়িয়ে দেশজুড়ে। বেশকিছু অসাধু ব্যবসায়ী মনোহরপুরের মাতৃভাণ্ডারের নামের আগে-পিছে বিশেষণ লাগিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিল্লা সদর, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং, চান্দিনা এলাকায় গড়ে তুলেছে শতাধিক মাতৃভাণ্ডার। অভিযোগ রয়েছে, এসব মাতৃভাণ্ডার থেকে প্রতিদিন শতশত মানুষ রসমালাই কিনে প্রতারিত হচ্ছে। যতটুকু জানা গেছে, গত উনিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে এক হিন্দু ব্যবসায়ী এসে কুমিল্লার মনোহরপুর এলাকায় রাজ রাজেশ্বরী কালীবাড়ির সামনে রাস্তার পাশে দই-মাঠা পরবর্তী সময়ে পেড়া বা সন্দেশ বিক্রি শুরু করেন। এরপর একসময় এই কালীবাড়ির সামনেই গড়ে তোলেন মাতৃভাণ্ডার নামে প্রতিষ্ঠানটি। পরে দেশ ছাড়িয়ে পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাঙালির উপস্থিতি সেখানে পৌঁছে গেছে এর সুনাম। এই প্রতিষ্ঠানটির কোথাও কোনো শাখা নেই। প্রতিদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানে ভিড় বাড়তে থাকে ক্রেতাদের। দোকান মালিকপক্ষ মিষ্টি বিক্রির বিষয়ে কোনো তথ্য না দিলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রমতে, প্রতিদিন কমপক্ষে চার-পাঁচ হাজার কেজি রসমালাই এই প্রতিষ্ঠানের নামে সারাদেশে বিক্রি হয়। প্রতিদিন বহু মানুষ রসমালাই না পেয়ে ফিরে যায়। কুমিল্লায় নানা কারণে আসা প্রায় প্রতিটি মানুষ সময়-সুযোগ পেলে রসমালাই ক্রয় করতে ছুটে আসে মনোহরপুর এলাকায়। আবার অনেকে নামে চিনলেও প্রকৃত মাতৃভাণ্ডারের অবস্থান না জানার কারণে মহাসড়কের পাশের দোকান থেকে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে থাকা দোকানগুলোও মাতৃভাণ্ডারের রসমালাই বলে রেলপথের যাত্রীদের কাছে প্রতিদিন বিক্রি করছে। এখানেও বিক্রেতারা মাতৃভাণ্ডারের প্যাকেটের অনুরূপ প্যাকেট ও প্লাস্টিকের কৌটায় রসমালাই সরবরাহ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র আরও জানায়, রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিলাসবহুল পাঁচ তারকাসহ সারাদেশের নামিদামি সব হোটেলেই কুমিল্লা মাতৃভাণ্ডারের রসমালাইয়ের আলাদা কদর রয়েছে। এছাড়াও অনেক ব্যবসায়ী এখান থেকে ক্রয় করে অন্যত্র বিক্রি করছে কিছুটা বেশি মূল্যে। এই যখন কুমিল্লার মাতৃভাণ্ডারের অবস্থা তখন বিগত এক দশক ধরে কুমিল্লার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মাতৃভাণ্ডারের আগে-পিছে ময়নামতী, আদি, কুমিল্লার, দি কুমিল্লা ইত্যাদি নানা বিশেষণ লাগিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে গড়ে তোলে কমপক্ষে শতাধিক মাতৃভাণ্ডার নামে মিষ্টির দোকান। সরেজমিন ঘুরে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, চলন্ত পথের বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা মাতৃভাণ্ডার দেখে প্রতিদিন রসমালাই কিনে প্রতারিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বেছে নিয়েছে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের যেসব এলাকায় উন্নতমানের হোটেল-রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে সেসব এলাকা। সূত্র আরও জানায়, মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা মাতৃভাণ্ডার নামে প্রতিষ্ঠানগুলো পাইকারি বা খুচরা দু’ভাবেই রসমালাই বিক্রি করছে। তারা কুমিল্লা মহানগরীর মনোহরপুরে অবস্থিত মাতৃভাণ্ডারের মিষ্টির প্যাকেটের আদলে প্যাকেট ও প্লাস্টিকের পাত্র তৈরি করে রসমালাই মাতৃভাণ্ডার নামে বিক্রি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র আরও জানায়, এসব দোকানে প্রতিকেজি রসমালাই পাইকারি সর্বনিম্ন মূল্য ১২০ টাকা। খুচরো সর্বোচ্চ মূল্য ৩০০ টাকা। অথচ মনোহরপুরের মাতৃভাণ্ডার তাদের প্রতিকেজি রসমালাই ২৬০ টাকায় বিক্রি করছে। এই প্রতিষ্ঠানের রসমালাইয়ের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটা অনেক দিন ফ্রিজে রেখে খাওয়া যায়। কিন্তু মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা মাতৃভাণ্ডারের রসমালাই এক দিনের বেশি রাখা যায় না। দিন দিন মহাসড়কের পাশে মাতৃভাণ্ডারের নামে এভাবে প্রতারিত হলেও কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে প্রতারিত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মহাসড়কের পাশে মাতৃভাণ্ডার নামে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, বিষয়টি সত্য। তবে তারা প্রত্যেকেই যে যে নামেই দোকান চালু করেছে, সেই নামেই ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ কোনো ব্যবসায়ী এরকম অভিযোগও করেনি। তারা আরও বলেন, কুমিল্লার মনোহরপুরে মাতৃভাণ্ডার নামে যে প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে, সেটিই সারাদেশ পেরিয়ে বিশ্বের বাঙালিদের কাছে জনপ্রিয়।

আরো পড়ুনঃ

=> কুমিল্লার মাতৃভান্ডারের আসল রসমালাই চিনে রাখুন !
=> কুমিল্লার মাতৃভাণ্ডারে ঘণ্টায় বিক্রি দেড়শ কেজি
=> কুমিল্লার রসমালাই

07 March 2017

কুমিল্লার নিমসার বাজারে ওভারব্রিজ নির্মাণ দাবি

কুমিল্লার নিমসার বাজারে ওভারব্রিজ নির্মাণ দাবি


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার নিমসার বাজার এলাকায় ওভারব্রিজ না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কের এই অংশে বাইপাস থাকায় পারাপারের ঝুঁকিও অন্য অংশের চেয়ে অনেক বেশি। স্থানীয় অধিবাসী, বাজারের ব্যবসায়ী ও ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হয়। মহাসড়কের এই পয়েন্টে একটি ওভারব্রিজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজির পাইকারি বাজার হিসেবে খ্যাত। এই বাজার ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল জনপদ। বাজারের ৫০০ গজের মধ্যে রয়েছে একটি কলেজ, একটি বালিকা বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাজারে আরও রয়েছে ৫টি ব্যাংকসহ কয়েকটি এনিজওর শাখা অফিস। এ ছাড়া প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাকযোগে এই বাজারে আসে সবজির চালান। এ উপলক্ষে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। সড়কের বাজার অংশে রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে প্রতিদিনই ছোট-বড় দূর্ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিককালে বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ও বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী রাস্তা পারাপারের সময় গাড়িচাপায় নিহত হয়েছে। 

ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মামুন মিয়া মজুমদার গতকাল সমকালকে বলেন, হাইওয়েতে দ্রুতগতিতে যান চলাচলের কারণে রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এখানে একটি ওভারব্রিজ নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নিমসার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হক জানান, শিক্ষার্থীরা রাস্তা পারাপার হতে ভয় পায়। নিমসার বাজারের সবজি ব্যবসায়ী হাজি হুমায়ূন কবির মেম্বার বলেন, প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ এই বাজারে যাওয়া-আসা করে। বাজারের মধ্যে দুটি সড়ক থাকায় পারাপারের সময় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। নিমসার মডার্ন স্কুলের চেয়ারম্যান ডা. টিপু সুলতান বলেন, শিশু শিক্ষার্থীরা একা রাস্তা পারাপার হতে পারছে না। অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। এ এলাকায় একটি ওভারব্রিজ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
সুত্রঃ সমকাল

11 August 2016

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বৃষ্টি হলেই জমে হাঁটু পানি

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বৃষ্টি হলেই জমে হাঁটু পানি


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ কুমিল্লা আন্তঃজেলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি খানা-খন্দের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা, দুর্গন্ধ, আর ছোট-বড় গর্তে সামান্য বৃষ্টিতে জমা হয় হাঁটু পানি। এছাড়াও সব সময় এতে নালা-নর্মদার ময়লা ও দূষিত পানি থাকে। এতে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে মানুষকে।
টার্মিনালের সংস্কারসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য গত কয়েক বছর ধরে কুমিল্লা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্টরা দাবি জানিয়ে আসলেও অসহনীয় এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট ওই টার্মিনাল থেকে ২০টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আন্দোলন শুরু হয়। এতে সিটি কর্তৃপক্ষ সহসা এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন স্থগিত রাখে।  
মহানগরীর জাঙ্গালিয়া এলাকায় কুমিল্লা আন্তঃজেলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লার লাকসাম, নাঙ্গলকোট ছাড়াও জেলার পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চলের সবকটি উপজেলার জনগণ ২০টি রুটে বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লার ও আঞ্চলিক যানবাহনের মাধ্যমে যাতায়াত করে। ২০১১ সালে নির্মাণ করা টার্মিনালটি। দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি। এ বাস টার্মিনালের ভেতরে বাস পার্কিংয়ের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এছাড়া এখানে দিন-দিন বেড়ে চলছে যাত্রী দুর্ভোগসহ ছিনতাই ও চাঁদাবাজদের উত্পীড়ন। টার্মিনালে প্রবেশের রাস্তায় রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানা-খন্দ। এতে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা।
কুমিল্লা জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, বাস টার্মিনালটি সংস্কার না হওয়ায় ক্রমেই জলাশয়ের মতো হয়ে গেছে। এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছি। আশা করছি জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত এর সংস্কার করা হবে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু জানান, নগরীর জাঙ্গালিয়াস্থ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে ভবন নির্মাণ, রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ ও ঢালাইয়ের জন্য ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দরপত্র আহবান করা হবে।

09 August 2016

কুমিল্লা বিশ্বরোডে নতুন মরণফাঁদ- অপরিকল্পিত ইউটার্ন

কুমিল্লা বিশ্বরোডে নতুন মরণফাঁদ- অপরিকল্পিত ইউটার্ন


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে নির্মানাধীন অপরিকল্পিত ইউটার্ন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। ইউটার্নটির কারণে এটি একটি যানজটের নির্ধারিত পয়েন্টেও পরিণত হয়ে ওঠছে।
ফলে কুমিল্লা, নোয়াখালী , দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১ টি জেলার শতাধিক রুটসহ ওই মহাসড়কে যাতায়াতকরী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার গাড়ি ওই মরন ফাঁদের শিকার হবে। এতে জান-মালের ব্যপক হানির আশংকাও রয়েছে।
জানা গেছে, জাতীয় অর্থনীতির সোপান হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে যানজট এবং রেল লাইন এড়াতে এখানে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ হাতে নেয় সরকার। এটি পদুয়াবাজারের পশ্চিমে শ্রীভল্লবপুর এলাকা থেকে পূর্বে উত্তর রামপুর পল্লী বিদ্যুত অফিস পর্যন্ত নেয়ার পরিকল্পনা ছিল। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-ফেনী অঞ্চলের গড়িগুলো ফ্লাইভরের উপর দিয়ে অনায়াসে চলে যেতে পারত।
পরবর্তীতে ওই ফ্লাইভারটিকে সংক্ষিপ্ত করে শুধুমাত্র রেলওয়ে ওভারপাস হিসেবে ৯৫ কেটি টাকা ব্যয় করে একটি ছোট ফ্লাইওভার তৈরী করা হয়। এটিকে গর্তে সাপ রেখে গর্ত ভরাটের মত মনে করছেন এ মহাসড়কে যাতায়াতকারী বিভিন্ন যানবাহণের চালকরা।
কারণ, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের মূল চৌমুহনী বাদ দিয়ে এ ফ্লাইওভার নির্মাণ করায় রেল লাইন পেরুতে পারবে ঠিকই, তবে চৌমুহনীতে এসেই যানজটের কবলে পড়তে হবে যানবাহনকে। আর তাই এটি হয়ে উঠবে একটি যানজটের বিষফোঁড়া।
এখন বাস্তবতার নিরিখে এখানে স্থায়ীভাবে যানজটের সমস্যা নিরসনের প্রশ্ন ওঠলে বর্তমানে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে পদুয়াবাজার চৌমুহনীতে কুমিল্লা-নোয়াখালী-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সড়কে সরাসরি যাতায়াত বন্ধ করে প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ রোড ডিভাইডার স্থাপন করে একটি ইউটার্ন নিমার্ণ করা হচ্ছে।
এই ইউটার্নের মাধ্যমেই কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুরসহ কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন  জেলার ৪০টি রুটে প্রতিদিন শত শত  যানবাহনকে কুমিল্লা-ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচল করতে হবে।
এর ফলে ইউটার্নের পশ্চিম পাশে ফ্লাইওভারের নিচে দিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও পূর্ব পাশে ইউটার্ন ঘুরে যানবাহন চলাচল করার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটসহ বিভিন্ন রুটে যাতায়াতকারী যানবাহনকে যানজটের গ্রাসে পড়তে হবে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যান চালক আলেক হোসেন, বলেন, একানে গাড়িগুলো হঠাৎ করেই ইউটার্নে ঢুকে যায়। ফলে দ্রুত গতিতে আসা সরাসরি গাড়িগুলো ব্র্যাক নিয়ে থামাতে অনেক সমস্যা হয়। একটি গাড়ি ইউটার্ন পার হতে লম্বালম্বিভাবে রাস্তা থাকায় মহাসড়ক পুরোপুরি বন্ধ থাকে। ফলে যজান-মাল নিয়ে শংকা দেখা দেয়।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি বিলাশবহুল বাসের চালক মিজুনুর রহমান বলেন, ফ্লাইওভার থেকে নেমে দ্রুত গতিতে ইউটার্নের কাছে এলেই কোন না কোন গাড়ি এপার থেকে ওপাড়ে যায়। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সরাসরি রুটের গাড়িগুলোকে যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
কুমিল্লা থেকে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রী পরিবহনের চালক মো. হারুনর রশিদ বলেন, ইউটার্নে এলে চালকদের আতংিেক থাকতে হয়। এখানে একটানে গাড়ি ওপার নেয়া যায়না। দ্রুতগতির গাড়িগুলো যেকোন সময় আমাদের গাড়িতে ধাক্কা লেগে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পরে। তিনি বলেন, ফ্লাইওভারটি অবশ্যই ইউটার্ন পার করে নেয়া উচিৎ ছিল। তাহলে সকল ঝামেলা মিটে যেত।
কুমিল্লার লালমাই ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক ফারুক আহমেদ বলেন, প্রতিদিন শত শত গাড়ি এভাবে ইউটার্ন পার হবার সময় এখানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আর সেই সাথে দুর্ঘটনারও সম্ভাবনা রয়েছে শতভাগ। সেই সাথে স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়ে এবং যানজটে আটকা পড়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে আমদানী রপ্তানী বাণিজ্যে চরম ব্যঘাত ঘটবে। এতে দেশের অর্থনীতির ক্ষতির সম্মুখিন হবে। তিনি বলেন, পদুয়ার বাজার ফ্লাইওভারটি পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতার আলোকে পদুয়ার বিশ্বরোডে নির্মানাধীন ফ্লাইওভারটি উত্তর রামপুরে পল্লী বিদ্যুত সমিতি পর্যন্ত নেয়া প্রয়োজন দেশ ও জাতির স্বার্থে।
এ ব্যাপারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেইন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মো. মাসুম সারওয়ার বলেন, ২০১৩-‘১৪ সালে এ ফা¬ইওভারটি উত্তর রামপুর কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত সমিতি পর্যন্ত নেয়ার পরিকল্পনা ছিল। ব্যয় বেড়ে যাবার কারণে  তা সংক্ষিপ্ত করা হয়। তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অবগত রয়েছেন। ইউটার্নের জায়গায় যানজট যাতে কম হয় সেজন্য মহাড়কের অংশ চওড়া করা হয়েছে।

06 August 2016

মুরাদনগরে ৬ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা

মুরাদনগরে ৬ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা



কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ থেকে রামচন্দ্রপুর পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশ জুড়েই দগদগে ক্ষত! এই সংযোগ সড়কের বেশিরভাগ অংশের পিচ ওঠে গেছে অনেক আগেই। আর বৃষ্টি এলেই সড়কটিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ তিন বছর ধরে দুই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সংযোগ সড়কটির বেহাল দশা হলেও সংস্কারের ব্যাপারে উদাসীন কর্তৃপক্ষ।



ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দূরত্ব বেশি হওয়ায় এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানকার বাসিন্দাদের হাট-বাজারসহ অন্যান্য কাজের জন্য মুরাদনগর উপজেলা সদরই একমাত্র ভরসা। দৈনন্দিন নানা কাজের জন্য মুরাদনগর সদরে আসতে হয় বাঞ্ছারামপুরবাসীদের। তবে এক্ষেত্রেও তাদের অনেকটা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।



সোমবার (১ আগস্ট) সরেজমিনে কোম্পানীগঞ্জ-রামচন্দ্রপুর সড়কে গিয়ে দেখা যায়, ভারী যানবাহন চলাচল আর দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বেশিরভাগ অংশে পিচ ওঠে গিয়ে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দেখলেই মনে হয় সড়কটির বুকজুড়ে দগদগে ক্ষত চিহ্ন! তবে এই ক্ষত সারানোরই যেন কেউ নেই!



দীর্ঘ তিন বছর ধরে কোম্পানীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে রামচন্দ্রপুর বাজার পর্যন্ত এ সড়কটির করুণ অবস্থা। শুধু সংস্কারের অভাবে সড়কটিতে সৃষ্ট খানা-খন্দের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাঞ্ছারামপুর ও মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দাদের। এ নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।



কোম্পানীগঞ্জ-রামচন্দ্রপুর সড়কে চলাচালকারী সিএনজিচালক জহির মিয়া   বলেন, তিন বছর ধরে সড়কটির বেহাল দশা। সড়কজুড়ে সৃষ্ট খানা-খন্দ আর জলাবদ্ধতার কারণে গাড়ি চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। বেহাল সড়কের কারণে একদিকে যাত্রীদের যেমন কষ্ট হয় তেমনি গাড়িরও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়।
আরেক সিএনজি অটোরিকশা চালক আক্কাস মিয়া বলেন, বেহাল সড়কের কারণে গাড়ির অনেক ক্ষতি হয়। ২৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগে এক ঘণ্টা। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতে অন্তঃসত্ত্বাসহ অন্যান্য রোগীদেরই বেশি কষ্ট হয়।



স্থানীয় কলেজছাত্রী আসমা বেগম   বলেন, প্রতিদিন এই বেহাল সড়ক দিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। একবার ভাঙা এই সড়ক দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে সিএনজি অটোরিকশা উল্টে গিয়ে আহত হয়েছিলাম। এরপরও প্রতিদিন এভাবেই আমাদের কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়।



রামচন্দ্রপুর বাজারের মুদি দোকানি কাউছার মিয়া   বলেন, সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি একেবারেই নাজেহাল। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের আগে কত প্রতিশ্রুতিই না দেন, অথচ ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর আমাদের দুর্ভোগের কথা আর চিন্তা করেন না।



শুধু সংস্কারে অভাবে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ তিন বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাই দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার করে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ হালিমুর রহমান   বলেন, কোম্পানীগঞ্জ-রামচন্দ্রপুর সড়কটি জেলা সড়ক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। ইতোমধ্যেই সড়কটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার (দরপত্র) হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) আমি নিজেই সড়কটি দেখতে গিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি।



ঠিকাদার আমাকে বলেছেন, এখন বর্ষাকাল হওয়ায় কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে আসলেই কাজ শুরু করা হবে। আশা করছি অচিরেই দুই উপজেলার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।



সুত্রঃ জাগো নিউজ